যেকোনো ধরনের আওয়াজকেই আমরা ধ্বনি হিসেবে চিহ্নিত করে থাকি। অনেক সময় মেঘের ডাক, পাখির কুহু কুহু ঝরনার মন মাতানো সুরে ঝরতে থাকার ধ্বনি, সেতারের টুংটাং নদীর বয়ে চলার ধ্বনি কিংবা আমাদের প্রাত্যহিক ব্যবহারিক জীবনে নানাবিধ ধ্বনির সাথে পরিচিত হতে হয়। এগুলিকেই সাধারণভাবে ধ্বনি বলা হয়ে থাকে। আবার আমরা যেসব কথাবার্তা বলে থাকি তাকেও ধ্বনি বলা হয়। ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত যে মূল আওয়াজগুলি মানুষের ভাষার প্রধান উপাদান সেগুলিকে ধ্বনি বলে। . যেমন বাতাসা এই শব্দটি যখন আমরা ব্যবহার করি সেখানে- ব্ + আ + ত্ + আ + স্+আ এই ধ্বনি গুলি আমরা ব্যবহার করে থাকি। ধ্বনির লিখিত রূপ হল বর্ণ এবং বর্ণের উচ্চারিত রূপ হলো ধ্বনি। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি চিন্তাধারা বহমান নদীর স্রোতের সাথেই সঙ্গতি রেখে পরিবর্তিত হতে থাকে। ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ উপাদান ধ্বনিও ভৌগোলিক, পারিপার্শ্বিক ভাষার বাগযন্ত্রের ত্রুটি, দ্রুত উচ্চারণ করা প্রবণতা, কঠিন বিষয়কে অপেক্ষাকৃত সহজ করে উচ্চারণের প্রয়াস,আবেগ প্রবণতা, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে থাকে। শব্দের আদিতে, মধ্যে বা অন্ত্যে স্বরধ্বনির আগমন ঘটলে সাধারণভাবে আমরা এই প্রক্রিয়াকে স্বরাগম বলতে পারি। আবার শব্দের আদিতে, মধ্যে কিংবা শেষে ব্যঞ্জনধ্বনির আগমন ঘটলে তাকে ব্যঞ্জনাগম বলে। আবার শব্দের আদিতে, মাঝে এবং শেষে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির লোপ পেলে তাকে স্বরলোপ এবং ব্যঞ্জনলোপ বলে। শব্দের মধ্যে ই কিংবা উ- কারকে সেই ব্যঞ্জনধ্বনির পূর্বে উচ্চারণের রীতিকে অপিনিহিতি বলে। শব্দ মধ্যস্থ একটি স্বরধ্বনি যেমন অন্য একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে পরিবর্তন হয় তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। ব্যঞ্জনসংঙ্গতি বা সমীভবন এবং ধ্বনি বিপর্যয় ও ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ধ্বনি, সমীভবন, অপিনিহিতি, স্বরসঙ্গতি, স্বতোনাসিক্যভবন,ধ্বনি বিপর্যয়
সুবিনয় বর. ধ্বনি পরিবর্তন. Indian Journal of Modern Research and Reviews. 2026; 4(5):29-32
Download PDF