ভারতীয় দর্শনের জ্ঞানতত্ত্বে প্রামান্যবাদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত বিষয়, যা জ্ঞানের সত্যতা, বৈধতা এবং নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানবজীবনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, সকল জ্ঞান সমভাবে যথার্থ নয়; অনেক সময় জ্ঞান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে তা ভ্রান্ত বা অযথার্থও হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয় কোন জ্ঞান যথার্থ এবং কোন জ্ঞান অযথার্থ, এবং জ্ঞানের সত্যতা নির্ধারণের ভিত্তি কী? ভারতীয় দার্শনিকগণ এই প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানে জ্ঞানের উৎস ও মাধ্যম (প্রমাণ)-এর পাশাপাশি জ্ঞানের প্রামাণ্যতা ও অপ্রামাণ্যতার প্রকৃতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন।
এই প্রবন্ধে ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন সম্প্রদায়, যেমন- পূর্বমীমাংসা, ন্যায়-বৈশেষিক, বৌদ্ধ, জৈন, সাংখ্য, যোগ এবং বেদান্ত দর্শনে প্রামাণ্যতা সম্পর্কিত তাত্ত্বিক অবস্থানসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে স্বতঃপ্রামাণ্যবাদ এবং পরতঃপ্রামাণ্যবাদের মধ্যকার দার্শনিক বিতর্ককে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায় জ্ঞানের সত্যতা নির্ধারণে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড গ্রহণ করলেও সকলের লক্ষ্য ছিল জ্ঞানের বৈধতার একটি যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা প্রদান করা। ফলে, প্রামাণ্যতা সম্পর্কিত এই বিতর্ক ভারতীয় জ্ঞানতত্ত্বকে সমৃদ্ধ করেছে এবং জ্ঞান, সত্য ও বাস্তবতার প্রকৃতি সম্পর্কে একটি গভীর দার্শনিক ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
প্রামাণ্যতা, অপ্রামাণ্যতা, স্বতঃপ্রামাণ্যবাদ, পরতঃপ্রামাণ্যবাদ, অনুব্যবসায়, ত্রিপুটি প্রত্যক্ষ, সৎকার্যবাদ।
ঋত্বিকা ঘোষ. ভারতীয় দর্শনে প্রামান্যবাদ নিয়ে বিতর্ক: একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ. Indian Journal of Modern Research and Reviews. 2026; 4(6):141-145
Download PDF